শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
ইয়াক! টয়লেটে রক্ত? সতর্ক হোন, প্রতিবারের অস্বস্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর পাইলস
অনলাইন ডেস্ক
পায়ুপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত, চুলকানি, ব্যথা কিংবা অস্বস্তি—এমন উপসর্গ অনেকেই হালকাভাবে নেন, কিন্তু এগুলো হতে পারে ‘পাইলস’ বা হেমোরয়েডের লক্ষণ। পাইলস মানেই সব সময় রক্তপাত নয়, অনেক সময় তা নিঃশব্দ যন্ত্রণা হয়ে শরীরে বাসা বাঁধে। তাই এসব উপসর্গকে অবহেলা নয়, বরং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
এটি এক ধরনের অবস্থা, যেখানে পায়ুপথের রক্তনালিগুলো ফুলে যায় বা প্রদাহ দেখা দেয়। এটি অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) ও বাহ্যিক (এক্সটারনাল)—এই দুইভাবে দেখা দিতে পারে। অভ্যন্তরীণ পাইলসে সাধারণত ব্যথা হয় না, কিন্তু মলত্যাগের সময় রক্তপাত হতে পারে। অন্যদিকে বাহ্যিক পাইলস অনেক সময় ফুলে যায়, দগদগে ব্যথা হতে পারে এবং কখনো কখনো ‘থ্রমবোজড’ অর্থাৎ জমাট বাঁধা রক্ত দেখা দিতে পারে।
পায়ুপথে অস্বস্তি মানেই পাইলস—এমনটা ভেবে অনেকে ভুল করেন। কারণ এই উপসর্গগুলো হতে পারে টিউমার, পলিপ, ফিশার কিংবা প্রস্টেট সমস্যারও লক্ষণ। তাই উপসর্গগুলো যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বেড়ে যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দীর্ঘ সময় কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা, কম আঁশ খাওয়া, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, বার্ধক্য এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে পাইলস হতে পারে। এমনকি ভারী বস্তু তোলা কিংবা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা অভ্যাসও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খাওয়া, প্রচুর পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া ও টয়লেটে কম সময় ব্যয় করাই এর প্রতিরোধের মূলমন্ত্র।
জটিল ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—
পাইলস নিয়ে লজ্জা নয়, সচেতন হোন। কারণ সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার কারণ। তাই উপসর্গ দেখলেই ব্যবস্থা নিন—আপনার শরীরের প্রতি আপনি দায়ী!